বিমান দুর্ঘটনায় নিহত রুশ ভাড়াটে যোদ্ধা বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সাবেক সহচরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তিনি প্রিগোজিন যে ভুল করেছেন তা মনে করিয়ে দেন। গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পুতিন প্রিগোজিনের মৃত্যু নিয়ে কথা বলেন।

পুতিন বলেন, প্রিগোজিনের সঙ্গে আমার পরিচয় ৯০ দশকের শুরুর দিকে। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ব্যবসায়ী এবং জটিল ভাগ্যের একজন মানুষ। নিজের জীবনে কিছু গুরুতর ভুল তিনি করেছেন, সেসবের ফলাফলও পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার টেলিভিশন চ্যানেলে প্রিগোজিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি প্রিগোজিনকে দীর্ঘ সময় ধরে চিনি। সেই নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে। এই মানুষটির ভাগ্য খারাপ ছিল। জীবনে তিনি মারাত্মক কিছু ভুল করেছিলেন। তবে প্রয়োজনীয় কিছু লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টাও করেছিলেন। তিনি নিজের জন্য ও আমার নির্দেশে সেগুলো করেছিলেন।’

পুতিন আরও বলেন, ‘আমি যত দূর জানি, প্রিগোজিন গতকাল (বুধবার) আফ্রিকা থেকে ফিরেছিলেন। সেখানে তিনি নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।’

একসময় প্রিগোজিনের পরিচয় ছিল পুতিনের ‘পাঁচক’ হিসেবে। তখন থেকেই ঘনিষ্ঠতা দুজনের। সেই সূত্র ধরে ওয়াগনারের হাল ধরেন প্রিগোজিন। ওয়াগনার রাশিয়ার হয়ে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও মস্কোর বড় সফলতা এসেছে বাহিনীটির হাত ধরে। তবে রুশ সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে গত ২৩শে জুন বিদ্রোহ ঘোষণা করেন প্রিগোজিন। যদিও তা ৪৮ ঘন্টার বেশি স্থায়ী হয়নি।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ‘এমব্রেয়ার লিগ্যাসি’ নামের ব্যক্তিগত ওই উড়োজাহাজটি রাশিয়ার মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে যাচ্ছিল। পথে কুঝেনকিনো এলাকায় বিধ্বস্ত হয় সেটি।

পুতিন জানান, রাশিয়ার তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই দুর্ঘটনা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।